ভোলা সদর উপজেলার ৩নং পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাহী সদস্য মাহমুদুল হাসান রিপন একই ইউনিয়নের ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) সকালে ইউনিয়নের বাঁধের পাড় বাজার এলাকায় তিনি এ সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদুল হাসান রিপন অভিযোগ করে বলেন, গেল রোববার বিকেলে ছাত্রদল নেতা হাবিব ও তার সহযোগীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি ও তার এক সহযোগী আহত হন। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের জানানো হলে তারা সমঝোতার আশ্বাস দেন।
কিন্তু রিপনের দাবি, হাবিব সেই সমঝোতার তোয়াক্কা না করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হন এবং পরে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রিপনকে আটক করে। তিনি চার ঘণ্টা থানায় আটক ছিলেন।
রিপন আরও দাবি করেন, ঘটনার আগের দিন হাবিবের ছোট ভাই শামীম হাওলাদার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন এবং তার মাথায় একাধিক সেলাই করা হয়। এই দুর্ঘটনার শিকার শামীমকে ভিক্টিম বানিয়ে হাবিব তার (রিপনের) বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশি হয়রানি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে হাবিবের বিরুদ্ধে জমি দখলসহ আরও নানা অভিযোগও তোলা হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, রোববার রাতে মাহমুদুল হাসান রিপন তার সঙ্গী-সহযোগীদের নিয়ে তাঁর (হাবিবের) দোকানে হামলা চালান, দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেন এবং তাঁকে ও আরও ৩–৪ জনকে মারধর করেন। এতে তার মুখমণ্ডল ও চোখের নিচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি ভোলা সদর মডেল থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিপনকে আটক করে। প্রায় ৭ ঘণ্টা আটক রাখার পর রিপনকে থানা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।
ছাত্রদল নেতা হাবিব, যিনি পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি পদপ্রার্থী, দাবি করেন যে শামীমের সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনাকে রিপন মিথ্যাভাবে অভিযোগের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।
অন্যদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নে উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বাঁধের পাড় এলাকায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা দলের শীর্ষ নেতাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।